অস্তিত্বের অধিকার বনাম ঘৃণা: সমকামী জীবনে কি নিরাপত্তার কোনো স্থান নেই?

কয়েক দিন আগে আমি লিখেছিলাম, “হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না: সমকামী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় চাই কঠোর আইনি পদক্ষেপ।”

সেই লেখায় আমি একটি খুব সাধারণ কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম: একজন মানুষের যৌন অভিমুখিতা যা-ই হোক না কেন, তার জীবন, নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকার থাকা উচিত। কারও বিশ্বাসের সঙ্গে সমকামিতা সাংঘর্ষিক হতে পারে, কেউ এর বিরোধিতা করতে পারেন, কিন্তু সেই বিরোধিতা কোনো মানুষের বিরুদ্ধে হুমকি বা সহিংসতায় পরিণত হতে পারে না।

কিন্তু আজ আবার লিখতে বসে আমাকে আরও কঠিন একটি প্রশ্ন করতে হচ্ছে:

একজন সমকামী মানুষের কি এই সমাজে নিরাপদে বেঁচে থাকার কোনো জায়গা আছে?

প্রশ্নটি আমার কাছে এখন আর কেবল তাত্ত্বিক নয়।

যখন একজন মানুষকে তার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে রাস্তায় থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যখন তাকে তার লেখালেখি বন্ধ করতে ভয় দেখানো হয়, তখন বিষয়টি আর শুধু মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

তখন প্রশ্নটি সরাসরি অস্তিত্বের হয়ে দাঁড়ায়।

আমার পরিচয় নিয়ে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে কেন?

আমি কাকে ভালোবাসি?

কার প্রতি আমার আকর্ষণ?

আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কেমন?

এসব প্রশ্নের উত্তর কি আমাকে রাস্তায় অপরিচিত বা অর্ধপরিচিত মানুষের কাছে দিতে হবে?

আমি মনে করি, না।

একজন মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পর্কে জানার কৌতূহল কারও থাকতে পারে। কিন্তু সেই কৌতূহল যখন জিজ্ঞাসাবাদ, ভয়ভীতি বা হুমকিতে রূপ নেয়, তখন সেটিকে আর সাধারণ সামাজিক প্রতিক্রিয়া বলা যায় না।

বিশেষ করে যখন প্রশ্নটি হয়, “তুমি কি সমকামী?”

এই প্রশ্নের পেছনে যদি থাকে হুমকি, তাহলে একজন মানুষ কী উত্তর দেবেন?

“হ্যাঁ” বললে কী হবে?

“না” বললে কি তাকে নিজের পরিচয় অস্বীকার করতে হবে?

আর কোনো উত্তর না দিলে কি সেটাও অপরাধ?

একজন নাগরিককে কেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে?

আমি উত্তর না দেওয়ার অধিকার রাখি

আমার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কাউকে উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।

আমি যদি আমার ব্যক্তিগত পরিচয়ের কোনো অংশ প্রকাশ করতে চাই, সেটা আমার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। একইভাবে আমি যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না চাই, সেই সিদ্ধান্তও আমার হওয়া উচিত।

কিন্তু আমাদের সমাজে যৌন সংখ্যালঘু মানুষের ক্ষেত্রে এই সাধারণ ব্যক্তিস্বাধীনতাটুকুও যেন অনেক সময় স্বীকার করা হয় না।

মানুষের মনে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, একজন সমকামী ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, তাকে বিচার করতে পারে, অপমান করতে পারে।

আর সে প্রতিবাদ করলে তাকেই দোষী বানানো যায়।

কেন?

সমকামী বলে কি একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা থাকবে না?

লেখালেখি বন্ধ করার জন্য ভয় দেখানো কেন?

আমি সমকামী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে লিখি।

আমার লেখা সবার পছন্দ হবে, এমন দাবি আমি কখনো করি না।

আমার কোনো বক্তব্য ভুল মনে হলে সেটির সমালোচনা করা হোক। আমার যুক্তির বিপরীতে যুক্তি লেখা হোক। কেউ চাইলে আমার পুরো অবস্থানের বিরোধিতাও করতে পারেন।

আমি তাতে আপত্তি দেখি না।

কিন্তু লেখার জবাব যদি হুমকি হয়, তাহলে সেটি আর বিতর্ক থাকে না।

“সমকামীদের পক্ষে লেখা বন্ধ করো।”

এই ধরনের বক্তব্যের অর্থ কী?

এর অর্থ হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কথা বলার জায়গাটুকুও সংকুচিত করে দেওয়া।

আজ আমাকে বলা হবে সমকামীদের নিয়ে লিখবে না। আগামীকাল আরেকজনকে বলা হবে নারীর অধিকার নিয়ে লিখবে না। অন্য কাউকে বলা হবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা বলবে না।

এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত কথা বলবে কে?

নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে যদি আরও ভয় জন্মায়

কেউ হুমকির শিকার হলে তার স্বাভাবিক আশ্রয়ের জায়গা কোথায়?

আইন।

রাষ্ট্র।

পুলিশ।

অন্তত আমাদের বিশ্বাস করতে শেখানো হয়, কোনো নাগরিক বিপদে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাবেন।

কিন্তু একজন যৌন সংখ্যালঘু ব্যক্তি যদি মনে করেন থানায় গেলে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না, তাহলে তিনি কোথায় যাবেন?

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

হুমকির অভিযোগ নিয়ে থানায় যাওয়া কোনো মানুষের জন্য আনন্দের বিষয় নয়। একজন মানুষ সাধারণত তখনই সেখানে যান, যখন তিনি নিজে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না এবং রাষ্ট্রের সাহায্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

সেই মুহূর্তে তার প্রয়োজন নিরাপত্তার অনুভূতি।

তার প্রয়োজন এই বিশ্বাস যে, অন্তত তার অভিযোগটি শোনা হবে।

অভিযোগকারী সমকামী, বিষমকামী, মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী, এসবের আগে তিনি একজন নাগরিক।

কেউ হুমকির শিকার হলে তার অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত হুমকির গুরুত্বের ভিত্তিতে, তার পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

তাহলে একজন সমকামী মানুষ কোথায় যাবে?

পরিবারের কাছে?

অনেকেই পরিবারের কাছে নিজের পরিচয় বলতে ভয় পান।

সমাজের কাছে?

সেখানেও উপহাস ও অপমানের আশঙ্কা।

পুলিশের কাছে?

সেখানেও যদি অভিযোগ গ্রহণ করা হবে কি না সেই অনিশ্চয়তা থাকে, তাহলে তার সামনে কী পথ অবশিষ্ট থাকে?

এই জায়গাতেই আমার প্রশ্ন:

সমকামী জীবনে কি নিরাপত্তার কোনো স্থান নেই?

নিজের ঘরে ভয়।

রাস্তায় ভয়।

সম্পর্ক প্রকাশে ভয়।

নিজের পরিচয় বলতে ভয়।

অধিকারের কথা লিখতে ভয়।

অভিযোগ করতে গেলেও ভয়।

এভাবে একজন মানুষ কত দিন বাঁচতে পারেন?

শুধু শ্বাস নেওয়ার নাম তো জীবন নয়।

পরিচয় গোপন করে বেঁচে থাকা কি সমাধান?

অনেকে খুব সহজে একটি পরামর্শ দেন: নিজের পরিচয় গোপন রাখুন।

কথাটি বলা সহজ।

কিন্তু এর অর্থ কী, সেটি কি আমরা কখনো চিন্তা করি?

এর অর্থ একজন মানুষকে বলা হচ্ছে, তুমি নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সারাজীবন লুকিয়ে রাখো।

যাকে ভালোবাসো, তাকে প্রকাশ্যে ভালোবাসার মানুষ বলতে পারবে না।

কোনো সম্পর্ক তৈরি হলে সেটি লুকাতে হবে।

নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলার আগে চারপাশ দেখতে হবে।

ছবি তুললেও চিন্তা করতে হবে কেউ দেখে ফেলবে কি না।

কাউকে বিশ্বাস করার আগেও ভাবতে হবে, সে ভবিষ্যতে এই পরিচয় তোমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে কি না।

এভাবে বেঁচে থাকাকে আমি স্বাধীনতা বলতে পারি না।

ভালোবাসা কেন আতঙ্কের কারণ হবে?

একজন ছেলে একটি মেয়েকে ভালোবাসলে আমরা সেটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখি। তারা একসঙ্গে হাঁটলে সাধারণত কেউ তাদের পরিচয় জানতে রাস্তায় থামায় না।

কিন্তু দুটি পুরুষ কিংবা দুটি নারী একে অপরকে ভালোবাসলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

হঠাৎ তাদের সম্পর্ক সমাজের আলোচনার বিষয় হয়ে যায়।

মানুষ জানতে চায় তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটে।

তাদের নিয়ে হাসাহাসি হয়।

কখনো ঘৃণা ছড়ানো হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন?

ভালোবাসা তো কারও বিরুদ্ধে সহিংসতা নয়।

দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্কের কারণে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়।

তাহলে তাদের জীবন নিয়ে এত ক্রোধ কেন?

ঘৃণা যখন একজন মানুষকে নিজের কাছেই অপরাধী বানায়

দীর্ঘদিন ঘৃণার পরিবেশে বসবাস করলে একজন মানুষ একসময় নিজের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন করতে শুরু করতে পারেন।

তিনি ভাবতে পারেন:

আমি কি সত্যিই খারাপ মানুষ?

আমার ভালোবাসাটা কি অপরাধ?

আমি কি পরিবারের জন্য লজ্জা?

আমি কি সমাজের জন্য সমস্যা?

একজন তরুণ যখন চারপাশ থেকে শুধু ঘৃণার ভাষা শুনতে শুনতে বড় হন, তখন তার মনের ওপর কী প্রভাব পড়ে, সেটিও আমাদের ভাবতে হবে।

কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করলেই শুধু সহিংসতা হয় না।

প্রতিদিন তাকে বোঝানো যে তার অস্তিত্বই অগ্রহণযোগ্য, সেটিও গভীর মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করতে পারে।

পরিবারের ভয়ও বাস্তব

সমকামী ব্যক্তির পাশাপাশি তার পরিবারও ভয় ও সামাজিক চাপের মধ্যে পড়তে পারে।

বাবা-মা হয়তো সন্তানকে ভালোবাসেন। কিন্তু একই সঙ্গে তারা প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এবং সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত থাকেন।

তখন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের প্রতিদিন দুশ্চিন্তা করতে হয়।

সে কোথায় যাচ্ছে?

কার সঙ্গে দেখা করছে?

কেউ তাকে অনুসরণ করছে কি না?

কোনো ঝামেলায় পড়বে কি না?

এই ভয় কোনো পরিবারের স্বাভাবিক জীবন হতে পারে না।

একজন বাবা-মাকে এমন অবস্থায় ফেলা উচিত নয় যেখানে সন্তানকে ভালোবাসা এবং সমাজকে ভয় পাওয়ার মধ্যে তাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানুষের নিরাপত্তা

আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, কারও ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়।

একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মীয় কারণে সমকামিতাকে গ্রহণ না-ও করতে পারেন। সেই মত ধারণ করার অধিকার তার আছে।

কিন্তু একই সঙ্গে আমারও প্রশ্ন করার অধিকার আছে।

আমারও লেখার অধিকার আছে।

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

ধর্মীয় মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে যদি কোনো মানুষের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরি হয়, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কেউ আমার সঙ্গে দ্বিমত করলে আমি তার দ্বিমত করার অধিকার রক্ষা করতে চাই।

আমি শুধু চাই, আমার বেঁচে থাকার অধিকারটিও একইভাবে রক্ষা করা হোক।

নীরবতা কি আমাদের নিরাপদ করবে?

আমাকে যদি বলা হয়, এসব নিয়ে আর লিখবেন না, তাহলে হয়তো আমি চুপ থাকতে পারি।

আরেকজনও চুপ থাকবেন।

তারপর আরেকজন।

কিন্তু তাতে সমস্যাটি কি চলে যাবে?

না।

বরং যারা ভয় দেখায় তারা বুঝবে, ভয় দেখানো কার্যকর।

এই কারণেই আমি মনে করি নীরবতা সবসময় নিরাপত্তা দেয় না। কখনো কখনো নীরবতা অন্যায়কে আরও শক্তিশালী করে।

তাই আমাকে লিখতে হবে।

কারও বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে নয়।

প্রতিশোধের জন্য নয়।

বরং একটি সাধারণ প্রশ্ন সমাজের সামনে রাখতে:

আমরা কি এমন একটি দেশ চাই, যেখানে একজন মানুষকে শুধু তার যৌন অভিমুখিতার কারণে প্রতিদিন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে?

আইনের কাছে সবাই সমান হওয়া প্রয়োজন

রাষ্ট্রের কাছে আমার প্রত্যাশা খুব বেশি নয়।

আমি বিশেষ সুবিধা চাই না।

আমি চাই না আমার সঙ্গে কেউ একমত হতে বাধ্য হোক।

আমি চাই না কারও ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তন করা হোক।

আমি শুধু চাই, আইন আমাকে একজন মানুষ ও নাগরিক হিসেবে দেখুক।

কেউ আমাকে হুমকি দিলে অভিযোগ করার সুযোগ যেন থাকে।

কেউ আক্রমণ করলে তদন্ত হোক।

কেউ সহিংসতায় উসকানি দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এবং আমার যৌন অভিমুখিতা যেন আমার বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উপেক্ষা করার কারণ না হয়।

একটি রাষ্ট্রের আইন তখনই অর্থবহ, যখন সংখ্যাগরিষ্ঠের পাশাপাশি সংখ্যালঘু এবং অজনপ্রিয় মানুষটিকেও সেটি রক্ষা করতে পারে।

আমার অস্তিত্ব কারও অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়

একজন মানুষ হিসেবে আমার সবচেয়ে মৌলিক দাবি হলো অস্তিত্বের অধিকার।

আমি কারও কাছে অনুমতি চেয়ে জন্মাইনি।

আমার অনুভূতির জন্যও কারও অনুমতি নেওয়া সম্ভব নয়।

আমি অন্য কারও ক্ষতি না করে নিজের জীবন নিয়ে বাঁচতে চাই।

এটি কি খুব বড় দাবি?

আমি মনে করি না।

সমকামী জনগোষ্ঠী সমাজের বাইরে থেকে আসা কোনো জনগোষ্ঠী নয়। তারা এই সমাজেরই সন্তান।

তারা কারও ভাই।

কারও বন্ধু।

কারও সহপাঠী।

কারও সহকর্মী।

কারও সন্তান।

তাদের অদৃশ্য ভাবলে তারা অদৃশ্য হয়ে যায় না।

তাদের চুপ করিয়ে দিলে তাদের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায় না।

শেষ কথা

কয়েক দিন আগে আমি লিখেছিলাম, হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না।

আজ সেই কথাটিই আরও দৃঢ়ভাবে বলতে চাই।

কারণ বিষয়টি এখন শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নয়।

বিষয়টি মানুষের অস্তিত্বের।

একজন মানুষ নিজের পরিচয় নিয়ে নিরাপদে বাঁচতে পারবেন কি না, ভালোবাসার কারণে তাকে আতঙ্কে থাকতে হবে কি না, হুমকির শিকার হলে রাষ্ট্রের কাছে আশ্রয় পাবেন কি না, এগুলো একটি সমাজের মানবিকতার মৌলিক পরীক্ষা।

আমরা সমকামিতা নিয়ে বিতর্ক করতে পারি।

ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারি।

নৈতিকতা নিয়ে তর্ক করতে পারি।

আমার লেখার কঠোর সমালোচনাও করতে পারি।

কিন্তু একজন মানুষের জীবন নিয়ে কোনো বিতর্ক হতে পারে না।

আমার মতের বিরোধিতা করুন, কিন্তু আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করবেন না।

আমার লেখার জবাব লিখুন, কিন্তু আমাকে ভয় দেখাবেন না।

আমার বিশ্বাসের সঙ্গে দ্বিমত করুন, কিন্তু আমার জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার দাবি করবেন না।

কারণ একজন সমকামী মানুষেরও পরিবার আছে, স্বপ্ন আছে, ভালোবাসার মানুষ আছে এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।

তারও ভয় লাগে।

তারও কষ্ট হয়।

তারও বাঁচতে ইচ্ছা করে।

তাই আবারও প্রশ্নটি রেখে যাচ্ছি:

অস্তিত্বের অধিকার যদি সত্যিই সবার হয়, তাহলে একজন সমকামী মানুষকে নিজের পরিচয় নিয়ে নিরাপদে বাঁচার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন?

আমি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে এই প্রশ্নটি একদিন আর করতে হবে না।

যেখানে একজন মানুষকে তার পরিচয়ের কারণে নিরাপত্তা চাইতে হবে না, কারণ নিরাপত্তা আগে থেকেই তার নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত থাকবে।

ভালোবাসা অপরাধ নয়। পরিচয় অপরাধ নয়। আর নিজের অস্তিত্বের অধিকার দাবি করাও অপরাধ হতে পারে না।