আমার লেখার উদ্দেশ্য কারো ধর্মকে আঘাত করা বা ধ্বংস করা নয়; বরং মানুষের জীবন রক্ষা এবং মানবতার মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা।

আমি ধর্ম ধ্বংস করতে চাই না, আমি মানুষের জীবন রক্ষা করতে চাই।

আমি কারও ঈমান কেড়ে নিতে চাই না।

আমি কারও প্রার্থনা বন্ধ করতে চাই না।

আমি শুধু চাই—ধর্মের নামে যেন আর কোনো মানুষ মরতে না হয়।

বাংলাদেশে বহুবার আমরা দেখেছি, ভিন্নমত মানেই “শত্রু”। প্রশ্ন মানেই “অপরাধ”। অবিশ্বাস মানেই “ঘৃণার লক্ষ্য”। মুক্তচিন্তার লেখক যেমন Avijit Roy-কে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। সমকামী অধিকারকর্মী Xulhaz Mannan-কে কুপিয়ে মারা হয়েছে। তাদের অপরাধ কী ছিল? তারা কি কারও ধর্ম ভেঙে দিয়েছিল? না। তারা শুধু কথা বলেছিল—মানবাধিকার ও যুক্তির পক্ষে।

আমি চাই—কেউ ধর্ম মানুক বা না মানুক, সে নিরাপদ থাকুক।

আমি চাই—কেউ সমকামী হলে তাকে “পাপী” বলে পাথর ছুঁড়ে মারার চিন্তা না করা হোক।

আমি চাই—কেউ নারী হলে তাকে পুরুষের সম্পত্তি ভাবা বন্ধ হোক।

আমি চাই—কেউ প্রশ্ন করলে তাকে হত্যা করার হুমকি না দেওয়া হোক।

আমি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে—

ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায়।

রাষ্ট্র থাকবে সবার জন্য সমান দূরত্বে।

আইন হবে মানবাধিকারভিত্তিক, ধর্মীয় আবেগভিত্তিক নয়।

এবং মানুষের জীবন—হবে সবচেয়ে পবিত্র।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় ধর্ম অনেক সময় ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সীমানা ছাড়িয়ে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। নারীর পোশাক, সমকামিতার পরিচয়, নাস্তিকের মতামত—সবকিছুর উপর ধর্মীয় ব্যাখ্যার চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২০১৮ সালের Digital Security Act এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” একটি অস্পষ্ট কিন্তু বিপজ্জনক অভিযোগে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষ কথা বলার আগে ভয় পায়।

আমি ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি না।

আমি যুদ্ধ করছি ভয়, ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে।

আমি বিশ্বাস করি—বিশ্বাসের স্বাধীনতা যেমন মৌলিক অধিকার, তেমনি অবিশ্বাসের স্বাধীনতাও মৌলিক অধিকার। কেউ যদি ধর্ম পালন করতে চায়, সে যেন স্বাধীনভাবে তা করতে পারে। কিন্তু কেউ যদি ধর্ম না মানতে চায়, তাকেও যেন একই নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

আমি চাই না মসজিদ ভাঙা হোক।

আমি চাই না মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হোক।

আমি চাই না কোনো ধর্মীয় বই নিষিদ্ধ হোক।

আমি চাই—মানুষকে হত্যা করার মানসিকতা নিষিদ্ধ হোক।

একটি সভ্য সমাজে প্রশ্ন করা অপরাধ নয়। সমালোচনা বিদ্বেষ নয়। ভিন্নমত রাষ্ট্রদ্রোহ নয়। কিন্তু যখন ধর্মকে প্রশ্নাতীত করে তোলা হয়, তখন মানুষকে প্রশ্নহীন আনুগত্যে বাধ্য করা হয়। আর সেই জায়গাতেই জন্ম নেয় সহিংসতা।

আমি ধর্ম ধ্বংস করতে চাই না।

আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই—

যেখানে একজন মুসলিম নিরাপদ,

একজন হিন্দু নিরাপদ,

একজন খ্রিস্টান নিরাপদ,

একজন নাস্তিক নিরাপদ,

একজন সমকামী নিরাপদ,

একজন নারী স্বাধীন।

আমি বিশ্বাস করি—ধর্ম টিকে থাকবে বিশ্বাসীদের কারণে,

কিন্তু মানবতা টিকে থাকবে সবার কারণে।

আর আমি মানবতার পক্ষে লিখি।