মৌলবাদীরা যখন বলে “নাচ–গান বন্ধ করতে হবে”, তখন সেটি কোনো ধর্মীয় বক্তব্য নয়—এটি তাদের মানসিক দারিদ্র্যের ঘোষণা।
কারণ যাদের নিজস্ব কোনো আনন্দ নেই, তারা অন্যের আনন্দকে সহ্য করতেও পারে না।
সোজা কথা:
নাচ–গান তাদের সহ্য হয় না, কারণ মুক্ত মানুষের চেহারা দেখলে তাদের ভিতরের অন্ধকার অশান্ত হয়ে ওঠে।
তারা জানে—
নাচ মানে আত্মবিশ্বাস
গান মানে স্বাধীন কণ্ঠ
শিল্প মানে প্রশ্ন
সংস্কৃতি মানে আলো
আর আলো দেখলে অন্ধকার সবসময় চিৎকার করে।
এই চিৎকারই আজ তাদের দাবিতে শোনা যায়।
তারা চায়—
ঢাকের শব্দ থেমে যাক, কারণ মানুষ এক হলে তাদের মিথ ভেঙে পড়ে।
গানের সুর নিভে যাক, কারণ সুর মানুষকে জীবন্ত রাখে।
নাটকের আলো নেভে যাক, কারণ সত্য প্রকাশ হলেই তাদের মুখোশ খুলে পড়ে।
তাদের পুরো এজেন্ডা এক লাইনে বলা যায়:
মানুষকে নিস্তব্ধ করে রাখতে হবে, তাহলেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
তারা ভয় পায় সেই বাংলাদেশকে—
যেখানে শিশুরা গান শেখে,
যুবারা নাচে,
নারীরা মঞ্চে ওঠে,
পুরুষরা সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে মানুষ হয়ে ওঠে।
তাদের ভাষায় নাচ–গান “হারাম” নয়—
হারাম হলো মানুষের স্বাধীনতা।
হারাম হলো আনন্দ।
হারাম হলো জীবনের রঙ।
কারণ রঙ দেখলে তাদের বিবর্ণ রাজনীতি টিকে না।
তারা যতই নাচ–গান বন্ধ করতে চায়, সত্যি হলো—
তাদের ইচ্ছেটাই এই দেশের মাটিতে অপ্রাসঙ্গিক, বাতিল, এবং ব্যর্থ।
বাংলাদেশকে থামানোর ক্ষমতা তাদের নেই;
তারা শুধু নিজেদের ক্ষুদ্রতা আর বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছে—প্রতিবার, প্রত্যেক কথায়।