কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে—এই খবরটি পড়ার পর আমি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম।
আমি এই লেখাটি কাউকে অভিযুক্ত করার জন্য লিখছি না। আমি লিখছি একজন মানুষ হিসেবে, একজন লেখক হিসেবে, এবং একজন নাস্তিক হিসেবে—যে এই ভয় খুব ভালো করেই চেনে।
বাংলাদেশে “ধর্ম অবমাননা” শব্দটি শুধু একটি অভিযোগ নয়, অনেক সময় এটি মৃত্যুদণ্ডের সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলো কি না, সেটি তখন আর গুরুত্বপূর্ণ থাকে না। একটি গুজব, একটি অভিযোগই যথেষ্ট হয়ে ওঠে সহিংসতার জন্য।
এই ঘটনাটি আমাকে আতঙ্কিত করেছে, কারণ এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি—নাস্তিক, সংখ্যালঘু, বা ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে সহিংসতা কীভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র সময়মতো সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
আমি নিজেও এই বাস্তবতার ভেতর দিয়ে গেছি। ধর্মীয় মৌলবাদের সমালোচনা করার কারণে আমি হুমকি পেয়েছি, আক্রমণের শিকার হয়েছি। তাই যখন ময়মনসিংহের এই ঘটনার কথা শুনি, তখন সেটি আমার কাছে শুধু একটি সংবাদ নয়—এটি একটি পরিচিত সতর্কবার্তা।
এই ধরনের সহিংসতা শুধু একজন মানুষকে হত্যা করে না, এটি পুরো সমাজকে নীরব করে দেয়। মানুষ ভয় পেয়ে যায় প্রশ্ন করতে, লিখতে, এমনকি ভিন্নভাবে ভাবতেও। ধর্ম তখন বিশ্বাসের বিষয় না থেকে ক্ষমতার অস্ত্র হয়ে ওঠে।
আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কোনো মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এটি মানবাধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একজন মানুষ কী বিশ্বাস করবে বা করবে না—এটি তার ব্যক্তিগত অধিকার।
এই লেখাটি আমি লিখছি ঘৃণা ছড়ানোর জন্য নয়। আমি লিখছি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য—এই সহিংসতা বাস্তব, এই ঝুঁকি বাস্তব, এবং এই ভয় কল্পনা নয়।
যতদিন একজন মানুষকে শুধু বিশ্বাস বা মতের কারণে হত্যা করা হবে, ততদিন এই প্রশ্ন আমাদের সামনে থাকবে:
আমরা কি সত্যিই নিরাপদ একটি সমাজে বাস করছি?