- uআমাদের দেশে কিছু লোক আছে যারা ভাস্কর্যের নাম শুনলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে।
কারণ?
ভাস্কর্য নাকি হারাম!
আমি ভাবি—পাথর নয়, আসলে জ্ঞানই এখানে হারাম হয়ে গেছে।
যারা শিল্প বোঝে না, ইতিহাস বোঝে না, মানুষের স্বাধীনতা বোঝে না—তাদের কাছে ভাস্কর্য অবশ্যই অপরাধ মনে হবে। কারণ তারা জানে, যেদিন মানুষ চিন্তা করা শিখবে, সেদিন তাদের “ধর্ম রক্ষার ব্যবসা” চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
—
মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় ভয়—মানুষ যেন মানুষ হয়ে ওঠে
মৌলবাদীরা ভয় পায় ভাস্কর্যকে নয়,
ভয় পায় সেই মানুষকে
যে ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ইতিহাস মনে করে।
যে মাথা উঁচু করে বলে—
“আমি স্বাধীন দেশের মানুষ, দাস নই।”
এই আত্মবিশ্বাসই তাদের অস্থির করে দেয়।
কারণ মৌলবাদ টিকে থাকে কেবল ভীত, বিভ্রান্ত, অন্ধ অনুসারীদের উপর।
যেখানে স্মৃতি জাগে, সেখানে মৌলবাদ মারা যায়।
—
মূর্তিকে অজুহাত বানিয়ে ভাস্কর্যবিরোধিতা—এ এক জঘন্য প্রতারণা
ইসলামে মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ—এটা ধর্মীয় যুক্তি।
কিন্তু ভাস্কর্য?
এর সঙ্গে উপাসনার সম্পর্ক নেই।
তাহলে কেন গোলমাল?
কারণ মৌলবাদীরা জানে,
মানুষের ইতিহাসকে আঘাত করা ধর্মকে আঘাত করার চেয়েও সহজ।
তারা মিথ্যে প্রচার ছড়ায়—
মূর্তি আর ভাস্কর্য একই!
যেন বই আর দাসত্ব একই জিনিস, কারণ দুটোতেই কাগজ লাগে।
এটা ধর্ম নয়, মনুষ্যবিরোধী বুদ্ধিহীন প্রচারণা।
—
সত্যটা হলো: ভাস্কর্য ভেঙে আসলে তারা ইতিহাস ভাঙতে চায়
তারা ভাস্কর্য ভাঙতে চায় কারণ—
যিনি আমাদের ভাষা রক্ষা করেছেন, তিনি তাদের শত্রু।
যিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, তিনি তাদের বিব্রত করে।
যিনি স্বাধীনতার প্রতীক, তিনি তাদের অন্ধকার রাজনীতি নষ্ট করে দেন।
তাই তারা পাথর নয়—আমাদের স্মৃতি, সাহস, পরিচয়—এসবকে ভেঙে ফেলতে চায়।
—
ধর্ম নয়—এটি ক্ষমতার বাণিজ্য, ভয় বিক্রি করার ব্যবসা
প্রতিবার মৌলবাদীরা সংকটে পড়ে, তারা নতুন শত্রু বানায়।
কখনো মেয়ে মানুষের শিক্ষা,
কখনো সংগীত,
কখনো পোশাক,
আর সময় পেলে ভাস্কর্য।
কারণ বিভাজন সৃষ্টি করাই তাদের মূল উপায়।
যারা সমাজকে অশিক্ষিত, সংকীর্ণ ও ভীরু করে রাখতে চায়, তারাই ভাস্কর্যকে হারাম বলে।
কারণ শিল্প মুক্ত করে—
আর মুক্ত মানুষ মৌলবাদীর কাছে সবচেয়ে বড় বিপদ।
—
যা সত্য: ভাস্কর্য হারাম নয়—হারাম হলো মিথ্যা ব্যাখ্যা, হারাম হলো মানুষের স্বাধীনতাকে দমন করা
ধর্ম কোনোদিনই শিল্পের শত্রু ছিল না—
মৌলবাদীরা ধর্মের নামে করে।
ধর্ম কোনোদিনই মুক্ত চিন্তাকে ভয় পায়নি—
মৌলবাদীরা পায়।
ধর্ম কোনোদিনই ইতিহাস মুছতে বলেনি—
মৌলবাদীরা চায়।
তাই আসল যুদ্ধ ভাস্কর্য নিয়ে নয়;
যুদ্ধটা হচ্ছে কোন সমাজ চাই—
একটি স্বাধীন চিন্তার সমাজ,
নাকি একটি অন্ধ অনুগামীদের খামারঘর।
—
শেষ কথা: ভাস্কর্য আমার ইতিহাস, ভাস্কর্য আমার আত্মসম্মান
যে জাতি নিজের ইতিহাস বহন করতে পারে না,
সে জাতিকে মৌলবাদ সহজেই দাস বানায়।
তাই ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ায়,
তারা আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়—
আমাদের স্মৃতি, আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে।
ভাস্কর্য নয়,
হারাম হলো সেই অন্ধকার, যারা মানুষের মস্তিষ্কে তালা লাগাতে চায়।