সুনামগঞ্জে কিছু লোক আছে—
তাদের চোখ সারা দিন অন্ধকার খুঁজে বেড়ায়।
আলো দেখলেই চোখে ব্যথা হয়,
গান শুনলেই হৃৎপিণ্ডে ধাক্কা লাগে,
মানুষ নিজের মতো বাঁচলে তাদের আত্মা টনমনে হয়ে ওঠে।
এদের নাম আমরা সবাই জানি—
জামায়াত, হেফাজত,
আরো কিছু নাম আছে যেগুলো বলা হয় না, কিন্তু সবাই বোঝে।
১. তারা নাচকে ভয় পায়, কারণ নাচ মানে স্বাধীনতা
একজন মানুষ যখন নাচে, তখন তার শরীর বলে—
“আমি নিজের অধিকারেই বাঁচি।”
এই এক বাক্যই মৌলবাদীদের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক।
তারা চায় শরীর বাঁধা থাকুক,
মাথা নিচু থাকুক,
মানুষের ভিতরে থাকা আলো নিভে যাক।
তাই নাচ নিষিদ্ধ।
আনন্দ নিষিদ্ধ।
স্বাধীনতা অপরাধ।
২. তারা গানকে ভয় পায়, কারণ গান মানুষকে ভিতর থেকে সচেতন করে
গানের সুর যখন বাউলের কণ্ঠ থেকে বের হয়,
তখন সুনামগঞ্জের হাওরে কেমন এক জাগরণ ওঠে।
সেই জাগরণই তাদের আতঙ্ক।
কারণ গান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়,
আর প্রশ্ন মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় শত্রু।
যে সমাজ গান গায়,
সেই সমাজকে ভয় দেখানো যায় না।
৩. তারা সমকামী মানুষকে ভয় পায়, কারণ ভালোবাসা তাদের দুনিয়ায় ফিট করে না
যে দুনিয়ায় ধর্মকে ঢাল,
ঘৃণাকে অস্ত্র,
আর মৃত্যুকে বার্তা বানিয়ে রাখা হয়—
সেখানে ভালোবাসা একটি বিদ্রোহ।
কিন্তু সমকামী মানুষ ভালোবাসারই ঘোষণা।
নিজের মতো বাঁচার সাহস।
নিজের অস্তিত্বের প্রতি সৎ থাকা।
এরা সেই সাহস সহ্য করতে পারে না।
তাই তারা হুমকি দেয়—
“হত্যা করো।”
কারণ তারা জানে—
ভালোবাসাকে হত্যা করতে না পারলে
তাদের ঘৃণার রাজত্ব ভেঙে পড়বে।
৪. তারা নারীদের ভয় পায়, কারণ নারীরা উঠে দাঁড়ালে অন্ধকার সরে যায়
একজন নারী যখন মঞ্চে দাঁড়ায়,
মুক্ত বাতাসে তার পোশাক দুলে ওঠে,
তার চোখে আত্মবিশ্বাস দেখা যায়—
তখন মৌলবাদীদের হাত কাঁপে।
নারী স্বাধীনতা মানে
তাদের পুরোনো শিকল ভেঙে যাওয়া।
৫. সুনামগঞ্জের হাওর জানে—অন্ধকার স্থায়ী হয় না
হাওর বিস্তৃত,
আকাশ মুক্ত,
বাউলের সুর পুরোনো হলেও আজও বিপ্লবী।
যারা হাওরের পাশে দাঁড়িয়ে ফতোয়ার মঞ্চ বানায়,
তারা জানে না—
এখানকার বাতাসেই বিদ্রোহ জন্মায়।
এই মাটি কাউকে ঘৃণা করতে শেখায় না।
এ মাটি গান শেখায়,
নাচ শেখায়,
ভালোবাসা শেখায়।
শেষ কথা: তাদের ভীতি আমাদের অস্ত্র নয়—আমাদের আলোই তাদের শেষ করে দেবে
সুনামগঞ্জের মানুষ অন্ধকারকে ভয় পায় না।
নাচ বন্ধ হলে তারা তাল বাজাবে,
গান থামানো হলে তারা সুর বাঁধবে,
আর সমকামীদের মৃত্যু–হুমকি এলে তারা আরও জোরে বলবে—
“মানুষকে মানুষের মতো বাঁচতে দাও।”
মৌলবাদীরা যতই চেঁচাক,
একটি সত্য তারা বদলাতে পারবে না—
আলো সবসময়ই অন্ধকারকে পরাজিত করে।
এবং সুনামগঞ্জের আলো নিভে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।