একজন মানুষ কাকে ভালোবাসবে, কার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে কিংবা নিজের ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে পরিচালনা করবে, সেটি তার জীবনের অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি বিষয়। কিন্তু আমাদের সমাজে আজও সমকামী মানুষের পরিচয়, সম্পর্ক ও ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে ঘৃণা, অপমান, ভয়ভীতি এবং সামাজিক বর্জনের ঘটনা দেখা যায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সময় এই ঘৃণা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন মানুষকে তার যৌন অভিমুখিতার কারণে প্রকাশ্যে অপমান করা, হুমকি দেওয়া, সামাজিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করা কিংবা তার বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
আমি মনে করি, এ নিয়ে আর নীরব থাকার সময় নেই।
কোনো মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করতে পারে না। আমি সমকামী মানুষকে পছন্দ করি কি না, তাদের জীবনধারার সঙ্গে একমত কি না, সেটি এখানে মূল প্রশ্ন নয়। মূল প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ হিসেবে তারা নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার রাখে কি না।
আমার উত্তর খুব পরিষ্কার: অবশ্যই রাখে।
ভিন্ন হওয়া অপরাধ নয়
আমাদের সমাজে সমকামী ব্যক্তিদের নিয়ে অসংখ্য নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, সমকামিতা নিয়ে কথা বললেই সমাজ বা ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সমকামী মানুষের অধিকারের কথা বলা মানেই সবাইকে সমকামী হতে উৎসাহিত করা।
এই ধারণা সঠিক নয়।
কারও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং তার ব্যক্তিগত জীবনধারা অনুসরণ করা এক বিষয় নয়। একজন মানুষের সঙ্গে আমার মতের অমিল থাকতে পারে, তার বিশ্বাসের সঙ্গে আমার বিশ্বাস মিলতে নাও পারে। কিন্তু সেই মতপার্থক্য আমাকে তাকে আক্রমণ, অপমান বা হত্যার হুমকি দেওয়ার অধিকার দেয় না।
একইভাবে ধর্মীয় বিশ্বাস একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রত্যেক মানুষের নিজের ধর্ম পালন, ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুসরণ এবং নৈতিক বিশ্বাস ধারণ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্য একজন মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকারও রক্ষা করতে হবে।
মতপার্থক্যের সমাধান সহিংসতা হতে পারে না।
ভয় দেখিয়ে মানুষের পরিচয় মুছে ফেলা যায় না
সমকামী জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ নিজের পরিচয় গোপন করে জীবনযাপন করেন। পরিবার কী ভাববে, প্রতিবেশীরা কী বলবে, বন্ধুরা দূরে সরে যাবে কি না, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা হবে কি না, এসব ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে।
একবার চিন্তা করুন, প্রতিদিন নিজের পরিচয় লুকিয়ে বেঁচে থাকা কতটা কঠিন।
আপনি কাউকে ভালোবাসেন, কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে পারবেন না। প্রিয় মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে ভয় পাবেন। নিজের অনুভূতির কথা বলতে গেলে আগে চিন্তা করতে হবে কথাটি অন্য কারও কানে পৌঁছালে কী হবে।
এটা কোনো স্বাধীন জীবন হতে পারে না।
হুমকি দিয়ে হয়তো একজন মানুষকে সাময়িকভাবে চুপ করিয়ে রাখা যায়। তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা যায়। ভয় দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু তার অস্তিত্ব মুছে ফেলা যায় না।
সমকামী মানুষ সমাজে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।
তাই ভয় সৃষ্টি করে তাদের অদৃশ্য করার চেষ্টা না করে আমাদের আলোচনা করতে হবে কীভাবে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
মতপ্রকাশের জবাব হুমকি হতে পারে না
আমি বিশ্বাস করি, কোনো বিষয়ে কারও বক্তব্য পছন্দ না হলে তার জবাব হওয়া উচিত আরেকটি বক্তব্য।
আপনি আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আমার লেখা আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে। আপনি আমার যুক্তির সমালোচনা করতে পারেন, পাল্টা লেখা লিখতে পারেন কিংবা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে পারেন।
এগুলো একটি সভ্য সমাজের স্বাভাবিক অংশ।
কিন্তু “চুপ করো, না হলে পরিণতি খারাপ হবে” ধরনের ভাষা কোনো যুক্তি নয়।
একজন লেখককে হুমকি দিয়ে তার কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুধু সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুমকি নয়। এর মাধ্যমে অন্যদেরও একটি বার্তা দেওয়া হয়: এই বিষয়ে কথা বললে তোমাদেরও একই পরিণতি হতে পারে।
এভাবে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।
একসময় মানুষ সত্যিকারের মতামত প্রকাশ করা বন্ধ করে দেয়। লেখক লেখা বন্ধ করেন। ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে ভয় পান। প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিতে চান না।
এই নীরবতা শেষ পর্যন্ত সহিংসতাকেই শক্তিশালী করে।
ধর্মের নামে সহিংসতার আহ্বান গ্রহণযোগ্য হতে পারে না
ধর্ম মানুষের বিশ্বাসের বিষয়। ধর্ম নিয়ে মানুষের আবেগ থাকবে, মত থাকবে এবং নৈতিক অবস্থান থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ বা হত্যা করার আহ্বান জানানোকে স্বাভাবিক মতামত হিসেবে দেখা উচিত নয়।
কেউ সমকামিতাকে ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য মনে না করলে তিনি তার বিশ্বাস অনুসরণ করতে পারেন। তিনি নিজের ধর্মীয় অবস্থান ব্যাখ্যাও করতে পারেন। কিন্তু সেই অবস্থান অন্য একজন নাগরিকের ওপর শারীরিক আক্রমণ বা হত্যার অনুমতি হতে পারে না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানেই গুরুত্বপূর্ণ।
আইনের চোখে একজন নাগরিকের জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে তার ধর্ম, লিঙ্গ, যৌন অভিমুখিতা বা রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়।
পরিবারের ওপরও পড়ে এর প্রভাব
সমকামী মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা শুধু সেই ব্যক্তিকেই আঘাত করে না। এর প্রভাব তার পরিবারেও পড়ে।
একজন সন্তানকে নিয়ে যখন সমাজে অপমানজনক কথা বলা হয়, তখন তার বাবা-মাও মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হতে পারে। আত্মীয়স্বজনের চাপ তৈরি হতে পারে।
অনেক পরিবার তখন সন্তানের নিরাপত্তা এবং সামাজিক অবস্থানের মধ্যে আটকে যায়।
কেউ সন্তানকে ভালোবাসে, কিন্তু সমাজের ভয়েও থাকে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে পরিবারগুলোকেও বোঝাতে হবে যে সন্তানের যৌন অভিমুখিতা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তাকে পরিত্যাগ করা বা তার ওপর সহিংসতা চালানো কোনো সমাধান নয়।
পরিবার হওয়া উচিত মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।
রাষ্ট্রের নীরবতা সমস্যাকে আরও ভয়াবহ করে
যে কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো ব্যক্তি যদি হুমকির শিকার হয়ে থানায় যান, তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। অভিযোগকারীর পরিচয় বা যৌন অভিমুখিতা দেখে অভিযোগের গুরুত্ব নির্ধারণ করা উচিত নয়।
একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি থাকলে পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সেই হুমকির প্রকৃতি যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়া।
ভুক্তভোগী যদি মনে করেন অভিযোগ করেও কোনো সুরক্ষা পাওয়া যাবে না, তাহলে তিনি আইনের ওপর আস্থা হারাবেন।
আর অপরাধীরা যদি মনে করে নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীকে হুমকি দিলেও কোনো পরিণতি হবে না, তাহলে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
প্রয়োজন কার্যকর আইনি সুরক্ষা
শুধু সহনশীলতার আহ্বান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তব ও কার্যকর আইনি সুরক্ষা।
যৌন অভিমুখিতার কারণে কাউকে হত্যার হুমকি দেওয়া, শারীরিকভাবে আক্রমণ করা, জোরপূর্বক হয়রানি করা কিংবা সংগঠিতভাবে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা দরকার।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও এমন প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, যাতে যৌন সংখ্যালঘু কোনো ব্যক্তি অভিযোগ করতে গেলে তাকে অপমান বা বিদ্রূপের মুখোমুখি হতে না হয়।
আইন তখনই অর্থবহ হয়, যখন একজন দুর্বল বা প্রান্তিক মানুষও বিশ্বাস করতে পারেন যে বিপদে পড়লে রাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে।
সমকামীদের অধিকার মানে বিশেষ সুবিধা নয়
একটি ভুল ধারণা প্রায়ই সামনে আসে: সমকামী জনগোষ্ঠীর অধিকারের কথা বলা মানে নাকি তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দাবি করা।
আমি বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না।
আমি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে একজন সমকামী মানুষ রাস্তায় মার খাওয়ার ভয় ছাড়াই চলতে পারবেন। হুমকি পেলে পুলিশের কাছে যেতে পারবেন। নিজের পরিচয়ের কারণে চাকরি, শিক্ষা বা চিকিৎসার মতো মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না। নিজের কথা বলার কারণে তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হবে না।
এগুলো বিশেষ সুবিধা নয়।
এগুলো মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন।
ঘৃণার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে সবাইকে
এই দায়িত্ব শুধু সমকামী জনগোষ্ঠীর নয়।
আজ একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্বাভাবিক মনে করলে আগামীকাল অন্য কোনো গোষ্ঠী একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারে।
তাই সমাজের শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ নাগরিক, সবারই দায়িত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান রেখেই তাদের বলা সম্ভব, মতপার্থক্য কখনো সহিংসতার অনুমতি দেয় না।
একটি বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে বক্তব্য দিয়েই তার জবাব দিতে হবে।
আমি কেন লিখছি
আমি এই লেখা কাউকে আঘাত করার জন্য লিখছি না।
আমি লিখছি কারণ আমি বিশ্বাস করি, ভয় দেখিয়ে কোনো মানুষের মৌলিক পরিচয় মুছে দেওয়া যায় না। আমি লিখছি সেই মানুষগুলোর কথা ভেবে, যারা হয়তো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করার সাহস পাচ্ছেন না।
আমি সেই তরুণটির কথা ভাবি, যে নিজের অনুভূতি বুঝতে শুরু করেছে কিন্তু কাউকে বলতে পারছে না।
আমি সেই মানুষটির কথা ভাবি, যে প্রতিদিন নিজের পরিচয় লুকিয়ে স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করছে।
আমি সেই বাবা-মায়ের কথাও ভাবি, যারা সন্তানকে ভালোবাসেন কিন্তু সামাজিক চাপের কারণে আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ প্রয়োজন।
আমি সমকামী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে লিখব, কারণ মানুষের নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলা কোনো অপরাধ হতে পারে না।
আমাকে কেউ যুক্তি দিয়ে ভুল প্রমাণ করতে চাইলে আমি সেই আলোচনাকে স্বাগত জানাই। আমার বক্তব্যের সমালোচনা করুন। পাল্টা যুক্তি দিন। লিখুন।
কিন্তু হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
শেষ কথা
একটি সমাজ কতটা মানবিক, সেটি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কতটা নিরাপদ তার ওপর নির্ভর করে না। সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক ও অজনপ্রিয় মানুষটিও কতটা নিরাপদ, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সমকামী মানুষের সঙ্গে আপনার মতপার্থক্য থাকতে পারে। তাদের সম্পর্ক বা জীবন সম্পর্কে আপনার ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় আপত্তি থাকতে পারে। সেই মত প্রকাশের স্বাধীনতাও থাকা উচিত।
কিন্তু মতপার্থক্য এবং সহিংসতার মধ্যে একটি পরিষ্কার সীমারেখা থাকতে হবে।
কোনো ফতোয়া, সামাজিক চাপ, ভয়ভীতি কিংবা হুমকি একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার বৈধতা দিতে পারে না।
আমি এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে কাউকে নিজের পরিচয়ের জন্য পালিয়ে বেড়াতে হবে না। যেখানে একজন মানুষ হুমকির শিকার হলে রাষ্ট্র আগে তার পরিচয় জানতে চাইবে না, বরং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তির জীবন ও মর্যাদার অধিকার, দুটোকেই আইনের কাঠামোর মধ্যে রক্ষা করা হবে।
সমকামী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাই প্রয়োজন স্পষ্ট অবস্থান, কার্যকর আইন এবং সেই আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ।
ঘৃণার বিরুদ্ধে নীরবতা নয়, কথা বলতে হবে।
সহিংসতার বিরুদ্ধে আপস নয়, আইনকে কার্যকর করতে হবে।
কারণ হুমকি দিয়ে একজন মানুষকে ভয় দেখানো সম্ভব, কিন্তু মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না।