এর আগে আমি লিখেছিলাম, “হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না: সমকামী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় চাই কঠোর আইনি পদক্ষেপ।”
এরপর লিখেছিলাম, “অস্তিত্বের অধিকার বনাম ঘৃণা: সমকামী জীবনে কি নিরাপত্তার কোনো স্থান নেই?”
সেই লেখাগুলোতে আমি বারবার একটি প্রশ্ন তুলেছিলাম: একজন সমকামী মানুষ কি নিজের পরিচয় নিয়ে নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার রাখে না?
আমি তখনও জানতাম না, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই প্রশ্নটি আমার নিজের জীবনে এত ভয়াবহভাবে ফিরে আসবে।
২ জুন ২০২৬।
দিনটি আমার জীবনের এমন একটি দিন, যা হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারব না।
সেদিন আমি বুঝেছিলাম, একজন মানুষের ব্যক্তিগত ভালোবাসা যখন ঘৃণায় অন্ধ কিছু মানুষের নজরে পড়ে, তখন তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং নিরাপত্তা কত দ্রুত বিপদের মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছিল আমাকে অনুসরণ করা হচ্ছে
কিছু মানুষের আচরণে আমার সন্দেহ হচ্ছিল যে আমাকে কৌশলে অনুসরণ করা হচ্ছে।
আগের ঘটনাগুলোর পর এমনিতেই আমি সতর্ক ছিলাম। সমকামী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে আমার লেখালেখির কারণে হুমকির মুখোমুখি হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তারপরও জীবন তো থেমে থাকে না।
আমারও ব্যক্তিগত জীবন ছিল।
আমারও ভালোবাসার একজন মানুষ ছিল।
তার নাম আশিক।
আশিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা ছিল না। কোনো আন্দোলনও ছিল না। সেটি ছিল দুজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক।
কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা ছিল, আমরা দুজনই পুরুষ।
আর এই একটি কারণেই আমাদের ভালোবাসাকে সবসময় লুকিয়ে রাখতে হতো।
আশিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক
আশিক আমার জীবনে হঠাৎ আসা কোনো মানুষ নয়।
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে আমার হাসি, অভিমান, অপেক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল।
কিন্তু অন্য অনেক যুগলের মতো আমরা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারতাম না।
আমাদের দেখা করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হতো।
কেউ দেখে ফেলবে কি না, কেউ সন্দেহ করবে কি না, পরিচিত কেউ আশপাশে আছে কি না, এসব নিয়ে ভাবতে হতো।
অনেক সময় নিজেকেই প্রশ্ন করেছি, ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দেখা করার জন্য আমাকে এত ভয় পেতে হবে কেন?
আমি কি কোনো অপরাধ করতে যাচ্ছি?
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ একে অপরকে ভালোবাসে। এতে অন্য কার ক্ষতি হচ্ছে?
কিন্তু এসব যুক্তি বাস্তবতার ভয়কে দূর করতে পারেনি।
২ জুনের সেই মুহূর্ত
২ জুন আমি আশিকের সঙ্গে দেখা করি।
এটি ছিল আমাদের ব্যক্তিগত সময়।
আমরা ভেবেছিলাম, অন্তত কিছু সময়ের জন্য বাইরের পৃথিবীর ভয়, হুমকি আর মানুষের ঘৃণা ভুলে নিজেদের মতো থাকতে পারব।
কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি, আমাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
আমার বর্ণনা অনুযায়ী, মৌলবাদী গোষ্ঠীর একজন সদস্য আমাদের একসঙ্গে দেখে ফেলে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, সে শুধু আমাদের দেখেই চলে যায়নি।
সে আমাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে।
যে মুহূর্তটি হওয়ার কথা ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, সেটিই মুহূর্তের মধ্যে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে এমন উপাদানে পরিণত হলো।
আমি যখন বিষয়টি বুঝতে পারলাম, তখন আমার মাথায় প্রথম যে অনুভূতিটি এসেছিল সেটি লজ্জা নয়।
সেটি ছিল ভয়।
প্রচণ্ড ভয়।
একটি ছবি কখন মৃত্যুভয়ের কারণ হয়ে ওঠে?
একটি ছবি সাধারণত স্মৃতি ধরে রাখে।
একটি ভিডিও কোনো মুহূর্ত সংরক্ষণ করে।
কিন্তু এমন একটি সমাজে যেখানে একজন মানুষের যৌন পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়া তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, সেখানে একটি ছবি আর শুধু ছবি থাকে না।
সেটি হয়ে উঠতে পারে ভয় দেখানোর মাধ্যম।
একজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ করে দেওয়ার অস্ত্র।
তার পরিবারকে সামাজিকভাবে চাপে ফেলার উপায়।
আর সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে, তাকে সহিংসতার লক্ষ্য বানানোর মাধ্যম।
সেই মুহূর্তে আমার মাথায় অসংখ্য চিন্তা ঘুরছিল।
ভিডিওটি কার কাছে যাবে?
কারা দেখবে?
আমার পরিবার জানতে পারলে কী হবে?
যারা আগে থেকেই আমার লেখালেখির কারণে ক্ষুব্ধ, তারা এটি পেলে কী করবে?
আমার চেয়ে বেশি ভয় হচ্ছিল আশিককে নিয়ে।
কারণ সে শুধু আমার সঙ্গী হওয়ার কারণে বিপদের মধ্যে পড়ে গেল।
আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর অধিকার কার?
আমি আজও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি।
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করার অধিকার অন্য একজন মানুষ কোথা থেকে পায়?
আমার যৌন অভিমুখিতা কারও পছন্দ না হতে পারে।
আমার সম্পর্ক নিয়েও কারও আপত্তি থাকতে পারে।
কিন্তু সেই আপত্তি কি কাউকে আমার ব্যক্তিগত জীবনে নজরদারি করার অধিকার দেয়?
কাউকে অনুসরণ করার অধিকার দেয়?
আমার ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করার অধিকার দেয়?
আমার উত্তর, না।
সমকামী হলেও আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার আছে।
আশিকেরও আছে।
আমরা দুজন পুরুষ বলে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন জনসমক্ষে প্রকাশ করার সম্পত্তিতে পরিণত হয় না।
রাতটি কেটেছিল আতঙ্কে
২ জুনের ঘটনার পর আমার মনে হচ্ছিল ভয়াবহ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
কিন্তু কী ঘটবে, কখন ঘটবে, কার ওপর ঘটবে, আমি জানতাম না।
অনিশ্চয়তার সেই অনুভূতিটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
ফোনের শব্দেও ভয় লাগছিল।
পরিচিত কারও ফোন এলে মনে হচ্ছিল, সে কি কিছু জেনে গেছে?
বাড়ির কথা মনে হচ্ছিল।
আশিকের পরিবারের কথা মনে হচ্ছিল।
সবচেয়ে বেশি মনে হচ্ছিল আশিকের কথা।
আমাদের সম্পর্কের কারণে যদি তার কোনো ক্ষতি হয়?
নিজের ভালোবাসার মানুষটির নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্ক নিয়ে একটি রাত কাটানো কতটা অসহায় অনুভূতি, সেটি হয়তো যার জীবনে ঘটেনি তাকে বোঝানো কঠিন।
তারপর এলো ৩ জুন
আমার আশঙ্কা সত্যি হতে খুব বেশি সময় লাগেনি।
পরদিন, ৩ জুন ২০২৬, পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
আমার বর্ণনা অনুযায়ী, মৌলবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা আমার বাড়িতে এবং আশিকের বাড়িতে হামলা চালায়।
এক দিনের ব্যবধানে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি একটি ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হলো।
আমার কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, আমাদের দুজনের সম্পর্কের কারণে শুধু আমরা নই, আমাদের পরিবারও এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ল।
একজন মানুষের যৌন পরিচয়ের জন্য তার বাবা-মাকে কেন ভয় পেতে হবে?
তার পরিবারের বাড়ি কেন নিরাপদ থাকবে না?
তার ভালোবাসার মানুষটির পরিবার কেন আতঙ্কে থাকবে?
কোন যুক্তিতে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জবাব একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা হতে পারে?
তখন আগের লেখাগুলোর কথা মনে পড়ছিল
এর আগে যখন আমি লিখেছিলাম, “সমকামী জীবনে কি নিরাপত্তার কোনো স্থান নেই?”, তখন হয়তো অনেকে প্রশ্নটিকে অতিরঞ্জিত মনে করেছিলেন।
কিন্তু ২ ও ৩ জুনের ঘটনা আমার কাছে সেই প্রশ্নকে আরও বাস্তব করে দিয়েছে।
নিজের ঘর যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে নিরাপদ জায়গা কোথায়?
প্রিয় মানুষের কাছে গেলে যদি অনুসরণ করা হয়, তাহলে ব্যক্তিগত জীবন কোথায়?
নিজের পরিচয় প্রকাশ করলে যদি হুমকি আসে, তাহলে স্বাধীনতা কোথায়?
আর নিজের পরিচয় গোপন রেখেও যদি মানুষকে অনুসরণ করা হয়, তাহলে একজন সমকামী মানুষ কীভাবে বাঁচবে?
ভালোবাসার জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না
আমি একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই।
আমার এবং আশিকের সম্পর্ক নিয়ে কারও ধর্মীয় আপত্তি থাকতে পারে।
কেউ এটিকে অনৈতিক মনে করতে পারেন।
কেউ আমার লেখালেখিরও বিরোধিতা করতে পারেন।
এসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
কিন্তু কোনো মতপার্থক্যই সহিংসতার বৈধতা তৈরি করে না।
আমাকে অপছন্দ করার অধিকার আপনার আছে।
আমার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার অধিকারও আছে।
কিন্তু আমার বাড়িতে হামলা করার অধিকার কারও নেই।
আশিককে ভয় দেখানোর অধিকার কারও নেই।
আমাদের পরিবারকে আক্রমণের লক্ষ্য বানানোর অধিকারও কারও নেই।
আমার বাবা-মায়ের অপরাধ কী?
এই প্রশ্নটি আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
একজন মানুষের যৌন অভিমুখিতা যদি সমাজের একটি অংশ পছন্দ না করে, তার জন্য তার বাবা-মা কেন মূল্য দেবেন?
আমার বাবা-মা আমাকে পৃথিবীতে এনেছেন।
তারা তাদের সন্তানের নিরাপত্তা চান।
একজন সন্তানের কারণে বাবা-মাকে আতঙ্কে থাকতে হবে, এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন।
আমি যখন নিজের অধিকারের কথা লিখেছি, তখন কখনো চাইনি আমার পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ুক।
আমি শুধু চেয়েছিলাম, একজন মানুষ হিসেবে নিজের কথা বলার অধিকার।
আশিকের অপরাধ কী?
একই প্রশ্ন আশিককে নিয়েও।
তার অপরাধ কী?
আমাকে ভালোবাসা?
আমার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা?
একজন পুরুষ হয়ে আরেকজন পুরুষকে ভালোবাসা?
ভালোবাসার কারণে যদি একজন মানুষকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে হয়, তাহলে আমাদের সমাজে ভালোবাসার সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন আছে।
আমি জানি, সবাই আমাদের সম্পর্ককে মেনে নেবেন না।
আমি সেটি দাবিও করছি না।
আমি শুধু বলছি, মেনে না নেওয়া এবং আক্রমণ করা এক বিষয় নয়।
গোপনীয়তার অধিকারও মানবিক মর্যাদার অংশ
২ জুনের ঘটনা আমাকে আরেকটি বিষয় গভীরভাবে ভাবিয়েছে।
যৌন সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তার আলোচনায় আমরা প্রায়ই শারীরিক সহিংসতার কথা বলি। কিন্তু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছবি বা ভিডিও তার অনুমতি ছাড়া ধারণ করা এবং সেটিকে ভয় দেখানোর উপকরণে পরিণত করার আশঙ্কা একজন মানুষের জীবনকে মুহূর্তে বদলে দিতে পারে।
বিশেষ করে এমন পরিবেশে যেখানে যৌন পরিচয় প্রকাশ হয়ে গেলে সামাজিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তৈরি হতে পারে।
একজন সমকামী মানুষেরও ব্যক্তিগত জীবন আছে।
তারও গোপনীয়তার অধিকার আছে।
আমি কেন আবার লিখছি?
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠতে পারে, এত কিছুর পরও কেন লিখছি?
কারণ চুপ করে গেলে ঘটনাটি ঘটে যায়নি এমন হয়ে যাবে না।
২ জুন আমাকে বুঝিয়েছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।
৩ জুন আমাকে বুঝিয়েছে ঘৃণা যখন সহিংসতায় পরিণত হয়, তখন তার শিকার শুধু একজন মানুষ থাকে না। তার পরিবার, ভালোবাসার মানুষ এবং আশপাশের সবাই তার প্রভাব বহন করে।
আমি চাই না অন্য কোনো তরুণকে ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চারপাশে তাকিয়ে নিশ্চিত হতে হোক কেউ তাকে অনুসরণ করছে কি না।
আমি চাই না কারও ব্যক্তিগত মুহূর্ত তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হয়ে উঠুক।
আমি চাই না কোনো বাবা-মাকে সন্তানের যৌন পরিচয়ের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাতে হোক।
শেষ কথা
আগের লেখায় আমি প্রশ্ন করেছিলাম:
সমকামী জীবনে কি নিরাপত্তার কোনো স্থান নেই?
২ ও ৩ জুনের অভিজ্ঞতার পর সেই প্রশ্ন আজ আরও ভারী হয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়েছে।
একজন মানুষের পরিচয় নিয়ে আপনার আপত্তি থাকতে পারে।
তার ভালোবাসাকে আপনি গ্রহণ না-ও করতে পারেন।
কিন্তু সে কারণে তাকে অনুসরণ করা, তার ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করা, তাকে ভয় দেখানো কিংবা তার পরিবারকে আক্রমণের লক্ষ্য বানানো কোনো সভ্য সমাজের উত্তর হতে পারে না।
আমাদের ভালোবাসার সঙ্গে কারও একমত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার স্বীকার করতে হবে।
আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার স্বীকার করতে হবে।
আমাদের পরিবারের নিরাপত্তার অধিকার স্বীকার করতে হবে।
আমি এবং আশিক দুজন মানুষ।
আমাদেরও অনুভূতি আছে।
আমাদেরও পরিবার আছে।
আমাদেরও স্বপ্ন আছে।
এবং আমাদেরও নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
ভালোবাসার মূল্য কখনো জীবন দিয়ে দিতে হতে পারে না।
আর যদি কোনো সমাজে একজন মানুষকে ভালোবাসার কারণে নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে হয়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু সমকামী মানুষের নয়।
প্রশ্নটা সেই সমাজের মানবিকতার।