প্রথমে আমাকে বলা হয়েছিল চুপ থাকতে।
তারপর ভয় দেখানো হয়েছিল।
তারপর আমার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নজরদারি করা হলো।
আমার এবং আশিকের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হলো।
এরপর আমাদের বাড়িতে হামলা হলো।
আমার পরিবারের ওপর আঘাত এলো।
১৭ জুন আবার আমাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর হলো। আমার বাবা-মা আহত হলেন।
আমি তখনও ভাবছিলাম, আর কতদূর যেতে পারে এই ঘৃণা?
২৮ জুন ২০২৬ তারিখে আমি সেই প্রশ্নের আরেকটি উত্তর পেলাম।
আমার বর্ণনা অনুযায়ী, হেফাযতে ইসলামের নেতা নজরুল ইসলাম আমার এবং আমার সঙ্গী আশিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
সেদিন আমার কাছে মনে হয়েছিল, এতদিন যে ভয় আমাকে রাস্তায় তাড়া করেছে, যে ভয় আমার বাড়ির দরজায় পৌঁছেছে, এবার সেই ভয় মামলার কাগজেও পৌঁছে গেল।
আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম:
আমি কি একজন মানুষকে ভালোবেসেছি, নাকি এমন কোনো অপরাধ করেছি যার জন্য আমাকে এখন আসামি হয়ে বাঁচতে হবে?
আমি এবং আশিক এখন মামলার আসামি
শব্দটি লিখতেও আমার কষ্ট হয়।
আসামি।
আমি।
আশিক।
আমাদের সম্পর্ক।
আমাদের ব্যক্তিগত জীবন।
এসবের সঙ্গে এখন একটি ফৌজদারি মামলার ভয় জড়িয়ে গেছে।
যে সম্পর্কের মধ্যে ছিল ভালোবাসা, বিশ্বাস, অভিমান, অপেক্ষা আর একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর আকাঙ্ক্ষা, সেই সম্পর্ককেই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদের একটি কারণ হিসেবে দেখতে হচ্ছে।
আমি কখনো ভাবিনি, একজন মানুষকে ভালোবাসার স্মৃতির পাশে একদিন আমাকে মামলা, গ্রেফতার আর কারাগারের ভয় নিয়েও ভাবতে হবে।
কিন্তু সেটিই আমার বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াল।
৩৭৭ ধারা আমার কাছে এখন শুধু একটি সংখ্যা নয়
একটি আইনের ধারা কাগজে কয়েকটি সংখ্যা হতে পারে।
কিন্তু যার বিরুদ্ধে সেই ধারায় মামলা হয়, তার কাছে সংখ্যাটি আর শুধু সংখ্যা থাকে না।
আমার কাছে ৩৭৭ এখন ভয়।
গ্রেফতারের ভয়।
আশিকের নিরাপত্তার ভয়।
আমার বাবা-মায়ের ভয়।
নিজের ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলার ভয়।
সবচেয়ে বড় কথা, নিজের পরিচয়ের কারণে অপরাধীর মতো বিবেচিত হওয়ার ভয়।
আমি সমকামী।
এই পরিচয় আমি কোনো অপরাধ করার উদ্দেশ্যে বেছে নিইনি।
আমার অনুভূতিগুলো কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ নয়।
আশিককে ভালোবাসাও কারও বিরুদ্ধে অপরাধ করার পরিকল্পনা ছিল না।
এটি ছিল আমার ব্যক্তিগত জীবন।
তাহলে আমার ব্যক্তিগত জীবন কখন ফৌজদারি মামলার বিষয়ে পরিণত হলো?
ভালোবাসার মানুষটির নামও যখন মামলায়
নিজের নাম মামলায় থাকার ভয় একরকম।
কিন্তু আশিকের নামও সেই মামলায় থাকার কথা জানতে পারা আমার জন্য অন্যরকম কষ্টের।
কারণ আশিক শুধু আমার সঙ্গী নয়।
সে এমন একজন মানুষ, যে আমার জীবনের খুব ব্যক্তিগত এবং আবেগের একটি অংশ।
আমি বারবার ভাবছিলাম, আমার সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই কি আজ তাকেও এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে?
আমরা যদি একে অপরকে ভালো না বাসতাম?
আমরা যদি নিজেদের অনুভূতি অস্বীকার করতাম?
আমরা যদি সারাজীবন ভয়ে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখতাম?
তাহলে কি আজ আমাদের নাম কোনো মামলায় থাকত না?
এই প্রশ্নগুলো আমাকে ভেতর থেকে কষ্ট দেয়।
কারণ একটি সম্পর্ক মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা।
কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেই সম্পর্কই যেন ভয়, হামলা এবং মামলার সঙ্গে জড়িয়ে গেল।
আমার অপরাধটা কোথায়?
আমি জানতে চাই, আমার অপরাধটা আসলে কোথায়?
আমি কি কাউকে আক্রমণ করেছি?
কারও বাড়ি ভাঙচুর করেছি?
কাউকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছি?
কারও ব্যক্তিগত জীবন গোপনে ধারণ করেছি?
আমি তো শুধু নিজের কথা লিখেছি।
আমি লিখেছি সমকামী মানুষেরও নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার থাকা উচিত।
আমি লিখেছি হুমকি দিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করা উচিত নয়।
আমি লিখেছি একজন মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে তাকে আক্রমণ করা উচিত নয়।
আমি নিজের সম্পর্কের মধ্যে একজন মানুষকে ভালোবেসেছি।
তারপরও শেষ পর্যন্ত আমাকেই মামলার মুখোমুখি হতে হলো।
এই বাস্তবতা আমাকে একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়:
যে মানুষটি হুমকির অভিযোগ করছে, শেষ পর্যন্ত যদি তাকেই নিজের পরিচয়ের কারণে আইনের ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়, তাহলে সে নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবে?
আগে ভয় ছিল হামলার, এখন ভয় গ্রেফতারেরও
একজন মানুষ যখন আক্রান্ত হন, তিনি সাধারণত রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চান।
পুলিশের কাছে যান।
আইনের আশ্রয় চান।
কিন্তু যখন সেই মানুষটির নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কই একটি ফৌজদারি মামলার কেন্দ্রে চলে আসে, তখন তার মানসিক অবস্থাটা কেমন হয়?
আমি একদিকে ভয় পাচ্ছিলাম তাদের, যারা আমাকে খুঁজছিল।
অন্যদিকে ভয় তৈরি হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাকে খুঁজবে কি না।
তাহলে আমি কার কাছে নিরাপত্তা চাইব?
কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?
আমার জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ অনুভূতিগুলোর একটি ছিল এই দ্বিমুখী ভয়।
আমি যদি বাইরে যাই, কারও হাতে আক্রান্ত হওয়ার ভয়।
আমি যদি পুলিশের কাছে যাই, মামলার কারণে গ্রেফতারের ভয়।
আমি যদি বাড়ি যাই, পরিবার আবার বিপদে পড়বে কি না সেই ভয়।
একজন মানুষ এভাবে কতদিন বাঁচতে পারে?
আমার বাবা-মায়ের জন্য নতুন আতঙ্ক
আমার বাবা-মা এর আগেই অনেক কিছু সহ্য করেছেন।
আমার পরিচয় ও আমাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কারণে তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে।
তারা আহত হয়েছেন।
তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়েছে।
তারপর এলো মামলা।
একজন বাবা যখন জানতে পারেন তার সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তখন তিনি কী অনুভব করেন?
একজন মা যখন ভাবেন পুলিশ তার সন্তানকে ধরে নিয়ে যেতে পারে, তখন তার রাত কীভাবে কাটে?
আমি সেই কষ্টের কথা ভাবলে নিজেকে সামলাতে পারি না।
আমি বারবার নিজেকে প্রশ্ন করেছি:
আমার বাবা-মায়ের অপরাধ কী?
তারা কি আমাকে জন্ম দিয়েছেন, এটাই তাদের অপরাধ?
তারা কি তাদের সমকামী সন্তানকে পরিত্যাগ করেননি, এটাই অপরাধ?
একজন সন্তানের পরিচয়ের জন্য তার পুরো পরিবারকে কেন ভয় নিয়ে বাঁচতে হবে?
আমাকে কি নিজের অস্তিত্ব অস্বীকার করতে হবে?
এই পরিস্থিতি একজন মানুষকে ভয়ংকর একটি জায়গায় নিয়ে যায়।
আপনি নিজের মনকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন।
আমি যদি বলি আমি সমকামী নই, তাহলে কি সব ঠিক হয়ে যাবে?
আমি যদি আশিককে অস্বীকার করি?
আমি যদি আমার লেখা মুছে ফেলি?
আমি যদি আর কখনো সমকামী মানুষের অধিকারের কথা না বলি?
আমি যদি নিজের পরিচয় লুকিয়ে ফেলি?
তাহলে কি আমাকে নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে?
কিন্তু তখন আরেকটি প্রশ্ন আসে।
নিজেকে অস্বীকার করে বেঁচে থাকাকে কি সত্যিই বেঁচে থাকা বলা যায়?
আমি যে মানুষ, সেটিই যদি প্রতিদিন অস্বীকার করতে হয়, তাহলে আমার স্বাধীনতা কোথায়?
আমি আশিককে অস্বীকার করতে পারি না
ভয়ের মুহূর্তে মানুষের মাথায় অনেক কিছু আসে।
আমারও এসেছে।
কিন্তু একটি জায়গায় এসে আমি থেমে যাই।
আমি আশিককে অস্বীকার করতে পারি না।
কারণ সে কোনো মামলার একটি নামমাত্র নয়।
সে আমার ভালোবাসার মানুষ।
আমাদের সম্পর্কের ভালো সময় ছিল, কঠিন সময় ছিল, ভয় ছিল, স্বপ্ন ছিল।
একটি মামলা সেই স্মৃতিগুলোকে অপরাধে পরিণত করতে পারে না।
কোনো কাগজ আমার অনুভূতির সত্যতা মুছে দিতে পারে না।
আমি জানি আমাদের সম্পর্ক অনেক মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আমি জানি অনেকে আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবেন না।
কিন্তু কাউকে ভালোবাসার কারণে নিজের মানবিক মর্যাদা ত্যাগ করতে আমি প্রস্তুত নই।
আইন এবং ন্যায়বিচার কি সবসময় একই কথা?
আইন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাও প্রয়োজন।
কিন্তু ইতিহাস আমাদের শেখায়, আইন নিয়ে প্রশ্ন তোলাও নাগরিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একটি আইন আছে বলেই সেই আইন নিয়ে আলোচনা করা যাবে না, এমন হতে পারে না।
বিশেষ করে কোনো আইন যদি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, গোপনীয়তা এবং যৌন সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, তাহলে সেই আইন নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
আমি বিচারকের ভূমিকা নিতে চাই না।
আমি শুধু সেই আইনের প্রভাবের মধ্যে থাকা একজন মানুষ হিসেবে প্রশ্ন করছি:
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকার সীমা কোথায় হওয়া উচিত?
এই প্রশ্ন করা কি অপরাধ?
একটি মামলা শুধু আদালতের বিষয় নয়
অনেকে ভাবতে পারেন, মামলা হয়েছে, আদালতে গিয়ে মোকাবিলা করলেই হলো।
কিন্তু একটি ফৌজদারি মামলা শুধু আদালতের চার দেয়ালের মধ্যে থাকে না।
এটি মানুষের ঘুমের মধ্যে ঢুকে যায়।
ফোন বেজে উঠলে ভয় তৈরি করে।
বাইরে পুলিশের গাড়ি দেখলে বুক ধড়ফড় করায়।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় উদ্বেগ তৈরি করে।
আগামীকাল কোথায় থাকব, সেটিও অনিশ্চিত করে দেয়।
বিশেষ করে যখন এর আগে হুমকি, হামলা এবং পরিবারের ওপর সহিংসতার অভিজ্ঞতা থাকে, তখন একটি মামলার খবর আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা থাকে না।
আগের সব ভয় একসঙ্গে ফিরে আসে।
আমি তখন নিজেকেই হারিয়ে ফেলছিলাম
কিছু সময় আসে যখন মানুষ বুঝতে পারে না পরের সিদ্ধান্তটি কী হওয়া উচিত।
আমি কি বাড়ি ফিরব?
আমি কি লুকিয়ে থাকব?
আমি কি পুলিশের কাছে যাব?
আমি কি আইনজীবীর সাহায্য নেব?
আমি কি দেশেই অন্য কোথাও চলে যাব?
প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে আরেকটি ভয় যুক্ত হচ্ছিল।
নিজের জন্মভূমিতে একজন মানুষ যখন নিজের নিরাপত্তার জন্য কোথায় দাঁড়াবে সেটিই বুঝতে পারে না, সেই অনুভূতি অত্যন্ত কঠিন।
আমার কাছে মনে হচ্ছিল চারপাশের জায়গাগুলো ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে।
আমি অপরাধী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে বিচার চাই
আমি আইনের ঊর্ধ্বে নই।
কেউই হওয়া উচিত নয়।
আমার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেটি পরীক্ষা করা হোক।
কিন্তু আমাকে শুধু একটি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়।
আমি শুধু “সমকামী” শব্দটি নই।
আমি একজন সন্তান।
আমি একজন সঙ্গী।
আমি একজন লেখক ও ব্লগার।
আমার অনুভূতি আছে।
আমার ভবিষ্যতের স্বপ্ন আছে।
আমি ভয় পাই।
আমি কষ্ট পাই।
আমি বাঁচতে চাই।
আমাকে সেই সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে।
আজ আমার কলমের প্রশ্ন রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে
আমি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চাই না।
আমি কারও ধর্মীয় বিশ্বাস কেড়ে নিতে চাই না।
আমি এটাও বলছি না যে আমার সঙ্গে সবাইকে একমত হতেই হবে।
আমি শুধু কয়েকটি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই।
একজন সমকামী মানুষের কি ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার আছে?
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ক কি তাদের পুরো জীবনকে অপরাধীর আতঙ্কে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণ হওয়া উচিত?
একজন মানুষ হুমকি ও হামলার শিকার হওয়ার পরও যদি নিজের পরিচয়ের কারণে আইনের ভয় পান, তিনি কার কাছে নিরাপত্তা চাইবেন?
আর একটি সমাজে যদি ভালোবাসার চেয়ে ঘৃণাই বেশি সুরক্ষিত মনে হয়, তাহলে আমাদের নিজেদেরই কি কিছু প্রশ্ন করা উচিত নয়?
২৮ জুন আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল
আগের ঘটনাগুলোর পরও আমার ভেতরে কোথাও হয়তো আশা ছিল পরিস্থিতি একসময় স্বাভাবিক হবে।
কিন্তু ২৮ জুনের পর সেই আশা আরও দুর্বল হয়ে গেল।
কারণ এখন আর শুধু কিছু মানুষের হুমকির ভয় ছিল না।
আমার সামনে একটি মামলার বাস্তবতাও এসে দাঁড়াল।
আমি জানতাম না আগামী দিন কী নিয়ে আসবে।
আমি জানতাম না আমাকে গ্রেফতার করা হবে কি না।
আমি জানতাম না আশিকের কী হবে।
আমি শুধু জানতাম, আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে।
শেষ কথা
প্রথমে আমি লিখেছিলাম:
হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না।
তারপর প্রশ্ন করেছিলাম:
সমকামী জীবনে কি নিরাপত্তার কোনো স্থান নেই?
এরপর লিখেছিলাম:
ভালোবাসার মূল্য কি জীবন দিয়ে দিতে হবে?
১৭ জুনের পর প্রশ্ন করেছিলাম:
আমি সমকামী, তাই কি আমার বাবা-মাকেও রক্ত দিতে হবে?
আর ২৮ জুনের পর আমার সামনে নতুন প্রশ্ন:
ভালোবাসার জন্য কি আমাকে এখন আসামি হয়ে বাঁচতে হবে?
আমি জানি না আমার সামনে কী অপেক্ষা করছে।
কিন্তু আমি জানি, আশিককে ভালোবাসার স্মৃতিকে আমি অপরাধের স্মৃতি হিসেবে দেখতে পারি না।
আমি আমার পরিচয় নিয়ে কাউকে আক্রমণ করিনি।
কারও বাড়ি ভাঙিনি।
কারও জীবন কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিইনি।
আমি শুধু নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছি এবং আমার মতো মানুষদের নিরাপত্তার কথা লিখেছি।
আজ সেই আমিই মামলার ভয়ে আত্মগোপনের কথা ভাবছি।
এর চেয়ে বড় বৈপরীত্য আর কী হতে পারে?
আমি আইনকে সম্মান করি।
একই সঙ্গে আমি প্রশ্ন করার অধিকারও দাবি করি।
আমি নিরাপত্তার অধিকার দাবি করি।
আমি ব্যক্তিগত মর্যাদার অধিকার দাবি করি।
আমি ভালোবাসার কারণে আতঙ্কে না থাকার অধিকার দাবি করি।
কারণ একটি মামলা একজন মানুষের নামের পাশে “আসামি” শব্দটি লিখতে পারে।
কিন্তু কোনো মামলার কাগজ একজন মানুষের ভালোবাসা, স্মৃতি, অনুভূতি এবং মানবিক মর্যাদাকে মুছে দিতে পারে না।
আমি সমকামী।
আমি আশিককে ভালোবাসি।
আর শুধু এই পরিচয় ও ভালোবাসার কারণে সারাজীবন ভয় নিয়ে বেঁচে থাকাকে আমি স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারি না।