বহু বিবাহ সওয়াবের কাজ?—মৌলবাদীদের ব্যবসা, ধর্ম নয়

মৌলবাদী দরবারগুলোতে নতুন কোনো যুক্তি নেই—পুরোনো পচা কথাই বারবার রঙচঙে করে পরিবেশন করা হয়। তাদের সাম্প্রতিক মুখরতা—“বহু বিবাহ করলে সওয়াব”—এমন এক হাস্যকর বচন, যা শুনলে মনে হয় ধর্ম নয়, যেন পুরুষতান্ত্রিক ভোগবাদের বিজ্ঞাপন চলছে। ধর্মে কোথাও নেই, কিন্তু মৌলবাদীদের কল্পনার ইসলামে বহু বিবাহ যেন কোনো পবিত্র সংগ্রাম!

১. ধর্মের নামে লম্পটতার বৈধতা খোঁজা

সত্যি কথা হলো, অধিকাংশ মৌলবাদী বহু বিবাহের গল্প বলে আসলে নিজেদের লালসার মঞ্চ তৈরি করে। তাদের কাছে নারী মানে—মানুষ নয়, অনুভূতি নেই, সম্মান নেই—শুধু পুরুষতান্ত্রিক কামনার পণ্য। আর এই পণ্য ব্যবহার করে তারা চায় ধর্মীয় ‘সওয়াব’ অর্জন করতে!
ধর্মকে এত লজ্জাজনকভাবে অপমান করার চেয়ে ধৃষ্টতা আর কী হতে পারে?

২. ধর্মের শর্ত বাদ দিয়ে শুধু ফায়দা তুলে নেওয়া

ধর্মে বহু বিবাহের যে আলোচনাটি আছে, সেটি কঠোর শর্তযুক্ত—ন্যায়বিচার করতে পারবে কিনা, সমাজিক দায়িত্ব নিতে পারবে কিনা, আর্থিক সক্ষমতা আছে কিনা—সবই যাচাইয়ের বিষয়।
কিন্তু মৌলবাদীরা সব শর্ত বাদ দিয়ে কেবল সুবিধাটাকে রেখে বাকিটা ফেলে দেয়।

ধর্মের বিধান থেকে শর্ত বাদ দিলে সেটি ধর্ম থাকে? নাকি ব্যক্তিগত ভোগের লাইসেন্স?

৩. বহু বিবাহ—সওয়াব নয়, পরিবার ধ্বংসের শর্টকাট

বাস্তবতা খুব সহজ:

একটি পরিবারই অনেকের পক্ষে ন্যায়ভাবে চালানো কঠিন;

আর্থিক টানাপোড়েন;

স্ত্রীর মানসিক যন্ত্রণা;

সন্তানের বিভাজন;

দাম্পত্যে বিষাক্ততা—

এইসব ভেঙে পড়া বাস্তবতা দেখেও যারা বহু বিবাহকে ‘সওয়াব’ বলে, তারা আসলে সমাজের ক্ষত খুলে আরও পচন ধরায়।

সওয়াবের কথা বাদ দিন—এটি তো কোনো নৈতিক মানুষের কাজই নয়।

৪. নারীর প্রতি বিদ্বেষকে ‘ধর্ম’ বলে চালানো

নারীর সম্মান, সমতা ও অধিকার মৌলবাদী ব্যাখ্যায় শেকলছাড়া। নারীকে তারা দেখে অধীনস্ত, বিনিময়যোগ্য, পুরুষের ধর্মীয় পুণ্য অর্জনের যন্ত্র হিসেবে।
এই মানসিকতা যতটা ধর্মদ্রোহী, তার চেয়েও বেশি মানবদ্রোহী।
ধর্ম নারীকে মর্যাদা দিয়েছে, মৌলবাদীরা সেটিকে লাথি মেরে নিজেদের কামনার সংবিধান বানিয়েছে।

৫. ধর্মকে ব্যবসা বানানো একদল কথিত ধার্মিক

মৌলবাদীরা আজকের সবচেয়ে বড় ধর্মব্যবসায়ী।
তাদের আলোচনায় ন্যায় নেই, দায়িত্ব নেই, মানবিকতা নেই—আছে শুধু পুরুষতান্ত্রিক স্বার্থ, নারীকে অবদমিত রাখার কৌশল, আর ধর্মের নামে মানুষের ওপর আধিপত্য কায়েমের রাজনৈতিক খেলা।

ধর্মকে তারা ব্যবহার করে, মানে না।
নারীকে তারা নিয়ন্ত্রণ করে, সম্মান দেয় না।
সমাজকে তারা বিভক্ত করে, উন্নত করে না।

৬. সওয়াব দায়িত্বে, ভোগবিলাসে নয়

ধর্ম স্পষ্ট বলেছে—ন্যায়বিচার যদি করতে না পারো, তবে একটিই যথেষ্ট।
এটাই ধর্মের নির্দেশ।
আর মৌলবাদীরা কী বলে?
—“যত বেশি বিবাহ, তত বেশি সওয়াব!”

সওয়াব আসে দায়িত্ব, সততা, সমতা, এবং মানবিকতার চর্চা থেকে—পুরুষতান্ত্রিক হরমোনের উল্লাস থেকে নয়।

উপসংহার: মৌলবাদী ব্যাখ্যা না বলেই ধর্মকে বাঁচাতে হবে

বহু বিবাহকে সওয়াবের কাজ বলা ধর্মের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার।
এটি নারীর বিরুদ্ধে গভীর অপমান।
এটি সমাজের বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।

এখন সময় এসেছে ধর্মকে মৌলবাদীদের হাত থেকে উদ্ধার করার।
কারণ ধর্ম কখনো পুরুষের ভোগলালসার জাস্টিফিকেশন ছিল না—কিন্তু মৌলবাদী ব্যাখ্যায় সেটিকেই তারা ‘আধ্যাত্মিক’ বানিয়ে বিক্রি করতে চায়।

এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে কথা বলা শুধু অধিকার নয়—এটি নৈতিক দায়িত্ব।