আব্বাস সিদ্দিকির দল কতো ভোট পাবে, কতো আসন পাবে সেটা নিয়ে মনে হয় না বাংলার উদারবাদীদের কারুর বিশেষ মাথা ব্যাথা আছে। বাংলার রাজনীতির অবস্থান বুঝতে পারলে সবাই জানবে নিজে একা দাঁড়ালে বাংলাতে একটি আসনে জেতার ক্ষমতাও আব্বাস সিদ্দিকির ছিল না। এখানে তাৎক্ষনিক যে ক্ষতি হল, সেটা হল মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার উত্থানকে সামনে রেখে রাজ্যের মধ্যে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে রাজনীতি করা দল অনেক সুবিধে পেয়ে যাবে। মুসলিম ভোটের বিভাজন এবং “হিন্দু খতরে মে হ্যায়” এই প্রচার হিন্দু ভোটকেও আরও সংগঠিত করে হিন্দুত্ববাদীদের দিকে ঠেলে দেবে। কিন্তু আরও বড় ক্ষতি হবে অন্য জায়গাতে। সেটা হল ঠিক যেভাবে ১৯০০ শতকের প্রথম দিকে হিন্দু-মুসলিমদের আলাদা আলাদা দল তৈরি হয়ে ভারতে ঘৃণা আর দাঙ্গার রাজনীতি জাঁকিয়ে বসেছিল ঠিক তেমন ভাবেই হিন্দু মৌলবাদের মোকাবিলা করতে এক মুসলিম মৌলবাদীকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়া বাংলার রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আরও বড় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিল। ভোট আসবে-যাবে, কেউ জিতবে-কেউ হারবে। কিন্তু বাংলার মাটিতে মুসলিম মৌলবাদী দলের প্রতিষ্ঠা দীর্ঘকালীন ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মৌলবাদেরই হাত শক্ত করবে।
যে প্রশ্ন দিয়ে লেখাটি শুরু করেছিলাম সেটার উত্তর দিয়ে দিই- হিন্দু এবং মুসলিম দুই মৌলবাদই সমান ভয়ানক, কেউ কারও থেকে কম ভয়ানক নয়। একদিকে যেমন ১৯০০ শতকের প্রথম দুই দশকে যেমন ভারতে দুই মৌলবাদী শক্তি প্রায় এক সাথেই জন্ম নেয়, এক সাথেই শক্তিশালী হয়, তেমনি ২০১২ সালের পর থেকে সর্ব ভারতীয় ক্ষেত্রে একই সাথে বিজেপি এবং এম.আই.এম এক শক্তিশালী হয়। বিগত ৫-৬ বছরে ভারতের মাটিতে হিন্দু মৌলবাদের হামলাতে গৌরি লঙ্কেশ, পানসারে, ধাবলকর, কাল্বুর্গিরা মারা গেছে, কিন্তু কোনো মুসলিম মৌলবাদী নেতাকে মারা যেতে দেখবেন না। তেমনি বাংলাদেশে মুসলিম মৌলবাদের আক্রমণে হিন্দু-মুসলিম দুই ধর্মেরই চিন্তাশীল সহিষ্ণু ব্লগাররা মারা যেতে পারে কিন্তু কখনো দেখবেন না কোনো হিন্দু মৌলবাদী মারা যাচ্ছেন। দুই মৌলবাদের মধ্যে তাৎক্ষনিক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মৌলবাদ বেশী ভয়ানক কারণ এদের শক্তিবেশী, এদের কামড়ে জোর বেশী। কিন্তু দীর্ঘ কালীন ভাবে দুজনেই সমান শক্তিশালী। কারণ আসলে দুই বিপরীত ধর্মী মৌলবাদ পরস্পরের পৃষ্ঠপোষক।