খোলা চিঠি: মানুষের পক্ষ থেকে, নাচ–গান নিষিদ্ধকারীদের উদ্দেশে**

  1. প্রিয় নিষেধ-প্রেমী মহোদয়গণ,
আপনাদের একটি প্রশ্ন আছে—
মানুষের কোন অংশটি আপনাদের সবচেয়ে ভয় দেখায়?
শরীর, মন, না ভালোবাসা?
কারণ আপনারা যা যা নিষিদ্ধ করেন,
তা সবই তো মানুষের স্বাভাবিক জীবন।
—
১. নাচ–গান নিষিদ্ধ করেন, কারণ মানুষের আনন্দ আপনাদের পক্ষে সহ্য করা যায় না
মানুষ নাচলে সে চিন্তা ধুলো ঝেড়ে ফেলে দেয়,
গান গাইলে তার বুকের ভেতর আলো জ্বলে।
আর আলো দেখলে তো আপনাদের চোখে ব্যথা হয়—
এটা সবাই জানে।
যার হৃদয়ে ভয় থাকে,
তার কণ্ঠে ফতোয়া জন্মায়।
—
২. নারী স্বাধীন হলে আপনাদের ভিতরকার অনিশ্চয়তা ফাঁস হয়ে যায়
আপনারা বলেন—
“নারী মঞ্চে উঠলেই সমাজ নষ্ট।”
আশ্চর্যের কথা,
সমাজ কিন্তু কখনো নষ্ট হয় না—
বরং নষ্ট হয় আপনাদের ক্ষমতার ক্যালকুলেশন।
আপনারা বহু বিবাহকে ধর্মীয় অধিকার মনে করেন,
কিন্তু একজন নারী মুক্ত হলে
তাকে হুমকি দেন ‘অশ্লীলতা’র বিচার।
সমস্যা ধর্মে নয়—
সমস্যা আপনাদের মালিকানা-লোভে।
—
**৩. সমকামী মানুষকে হত্যা করতে চান,
কারণ ভালোবাসা আপনাদের ঘৃণার বাজার ভেঙে দেয়**
ভালোবাসা তো নিয়ম মেনে চলে না।
এটা আপনাদের প্রচারমঞ্চে শেখানো ঘৃণায় বাঁধা পড়ে না।
তাই আপনি বলেন—
“ওদের থাকতে দেওয়া যাবে না।”
যে ভালোবাসা আপনাদের বোঝার শক্তির বাইরে—
আপনারা তাকে হত্যা করতে চান।
—
**4. আর নাস্তিক?
তাদের হত্যা করতে আপনাদের সাহসই সবচেয়ে বেশি**
কারণ তারা প্রশ্ন করে।
ভালোবাসার মতোই প্রশ্ন আপনাদের শত্রু।
প্রশ্ন করলে আপনাদের প্রতিষ্ঠিত মিথগুলো কাঁপতে শুরু করে।
তাই বলেন—
“মেরে ফেলো।”
মনে রাখবেন—
ইতিহাসে কখনও প্রশ্নকে হত্যা করা যায়নি।
—
**শেষ কথা:
আপনারা নিষিদ্ধ করতে পারেন, কিন্তু মানুষ থামবে না**
নাচ নিষিদ্ধ করলে মানুষ তাল পাবে,
গান বন্ধ করলে তারা সুর তৈরি করবে,
ভালোবাসা আটকালেও তা নতুন পথ খুঁজে নেবে,
আর চিন্তা হত্যা করতে চাইলে—
তারাই আপনাদের ইতিহাসে খলনায়ক বানিয়ে দেবে।
কারণ নিষেধাজ্ঞা কখনও সভ্যতা গড়ে না—
মানুষই গড়ে।
আর মানুষ চিরকালই আলো খুঁজে নেয়।
শুভেচ্ছান্তে,
মানুষ