জামালগঞ্জে আবারও মাথা তুলছে অন্ধকার — এবার কথা বলতে হবে ক্ষিপ্ত স্বরে

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ যেন বারবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখছে—মৌলবাদীরা দল বেঁধে উঠে আসে, আর সমাজকে টেনে নিতে চায় মধ্যযুগের গহ্বরে। সত্যি বলতে কী, এর বিরুদ্ধে শান্ত, ভদ্র ভাষায় কথা বলার সময় অনেক আগেই শেষ।
কারণ এরা কী চায়, তা এখন আর কারও অজানা নয়।
তারা চায় নাচ–গান বন্ধ হোক। যেন মানুষ হাসতে না পারে, আনন্দ না করতে পারে, প্রশ্ন করতে না পারে।
তারা চায় বহুবিবাহের ছদ্ম স্বাধীনতা, যেন নারীর জীবন আবার পুরুষতান্ত্রিক শেকলে আটকে যায়।
আর ভয়ঙ্কর হচ্ছে—তারা প্রকাশ্যে সমকামী মানুষ হত্যার দাবি তোলে! এটি কোনো মতামত নয়, এটি বর্বরতার ঘোষণা।
এই অন্ধকার প্রকল্পের পেছনে বারবার দেখা যায় পরিচিত দুই মুখ—হেফাজত ইসলাম আর জামায়াত–শিবির।
তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট: বাংলাদেশকে আধুনিক, সাংবিধানিক রাষ্ট্র থেকে সরিয়ে এক ভয়ঙ্কর ধর্মতান্ত্রিক শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলা।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—কতদিন আমরা শুধু দেখেই যাব?
জামালগঞ্জসহ সারা দেশে স্পষ্ট করে বলতে হবে:
এরা কারা?
এদের অধিকার কে দিল যে তারা সংস্কৃতির ওপর হামলা চালাবে?
কারা অনুমতি দিল যে তারা নারীর জীবনের ওপর আইন বানাবে?
আর কে তাদের বলল যে কোনো মানুষের জীবন তাদের ধর্মীয় রাগের ওপর নির্ভর করবে?
এই ক্ষোভই আজ প্রয়োজন।
ভদ্রতা দিয়ে মৌলবাদ ঠেকানো যায় না—স্পষ্ট, দৃঢ়, অচল অবস্থান দরকার।
বাংলাদেশের মুক্তচিন্তা, সংস্কৃতি, মানবাধিকার—এই সবকিছুই আজ প্রশ্নের মুখে।
আর যদি এখনো আমরা মুখ না খুলি, তাহলে এই অন্ধকারকে প্রতিরোধ করার মতো আলো আর থাকবে না।