মৌলবাদীরা যখন বলে “নাচ–গান বন্ধ করতে হবে”, তখন তারা শুধু বিনোদন থামাতে চাইছে না।
তারা আসলে থামাতে চাইছে মানুষের স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা, চিন্তার শক্তি আর আনন্দের অধিকার।
নাচ–গান কোনো বিলাসিতা নয়;
এগুলো মানুষের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক পরিচয়, অনুভূতির ভাষা, উৎসবের প্রাণ, প্রতিরোধের শক্তি।
একটি জাতি যখন গান গায়, তখন সে ভয়কে জয় করে;
যখন নাচে, তখন দাসত্বের শেকল ভাঙে;
যখন শিল্প চর্চা করে, তখন প্রশ্ন করতে শেখে।
আর সেই কারণেই তারা এটিকে ভয় পায়।
কারণ—
সংস্কৃতির আলো জ্বলে উঠলে অন্ধকারের রাজনীতি টিকে না।
মানুষ ভাবতে শিখলে ধর্মীয় বাণিজ্য ভেঙে পড়ে।
সমাজ উদার হলে মৌলবাদীদের নিয়ন্ত্রণ কমে যায়।
তারা চায় একটি নীরব, স্থবির, ভীত সমাজ—
যেখানে কেউ গান গাইবে না, কারণ গান স্বাধীনতার কথা বলে;
কেউ নাচবে না, কারণ নাচ আনন্দের ভাষা;
কেউ মঞ্চ করবে না, কারণ নাটক সত্যকে তুলে ধরে।
সংস্কৃতিকে ‘পাপ’ বলা তাদের পুরনো কৌশল।
তারা জানে, যদি মানুষের জীবনে আনন্দ থাকে, উৎসব থাকে, রঙ থাকে—তাহলে ভয় দেখিয়ে তাকে দমন করা যায় না।
সুতরাং নাচ–গান বন্ধের দাবি শুধু সাংস্কৃতিক নয়—
এটি সামাজিক দমননীতি,
মানসিক নিয়ন্ত্রণ,
এবং একটি পুরো জাতিকে বিষণ্ণ ও অনুগত করে ফেলার পরিকল্পনা।
এ কারণে নাচ–গান রক্ষা করা মানে শুধু শিল্প রক্ষা করা নয়—
এটি রক্ষা করা মানুষের অস্তিত্ব,
স্বাধীনতা,
এবং বাংলাদেশী পরিচয়ের মূলভিত্তি।